শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবলাকে খুনের পর  ছোটভাইকে গুলি করে হত্যার হুমকি

চট্টগ্রামে ৫০ হাজার পুলিশ পাহারায় থাকলেও ঘরে ঢুকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজ উদ্দিনকে। তিনি গত ৫ নভেম্বর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিতে নিহত বিএনপি কর্মী সরোয়ার হোসেন বাবলার ছোট ভাই। বাবলা চট্টগ্রাম নগর পুলিশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এই হুমকি দিয়েছেন। ২৫ জানুয়ারি) হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক অডিও বার্তায় এই হুমকি দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আড়াই মিনিটের ওই অডিওতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অকথ্য গালিগালাজ করতে শোনা যায়। হুমকিদাতা আজিজ উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কয়দিন ঘরে বসে থাকবি, প্রশাসন কয়দিন পাহারা দেবে। প্রশাসন থেকেই–বা কী হবে, তোর ভাইকে ১০ হাজার মানুষের মধ্যে মেরেছি। ৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে তোকে মেরে ফেলব। তোকে মারতে আমি যাব। তোর ভাইকে মানুষ দিয়ে মাথায় গুলি করে মেরেছি। তোকে গুলি করে পুরো শরীর বোলতার বাসা বানিয়ে ফেলব।’

আজিজকে হত্যার হুমকি দিয়ে আরও বলা হয়, ‘তোকে মারলে কী হবে। ১টি খুন করলে যে সাজা, ১০টি খুন করলেও সেই সাজা।’

হুমকি পাওয়া আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাইকে গুলি করে মারার পর থেকে আমাকে প্রায়ই হুমকি দিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত রবিবার আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

হত্যার হুমকির পাওয়ার বিষয়টি তিনি মৌখিক ও লিখিতভাবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং নগর পুলিশের কমিশনারকে অবহিত করেছেন বলেও তিনি জানান।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। খুন, চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজির ঘটনায় তার নাম একাধিকবার আলোচনায় এলেও পুলিশ এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ইমন পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সে বিদেশি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে এমন হুমকি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা। ওই ঘটনায় বিএনপি প্রার্থীসহ চারজন আহত হন। পুলিশ এ মামলায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল হত্যাকারীকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।