চট্টগ্রামে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই কে কে মন্ত্রী হতে পারেন এ নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপির অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী যেখানে পরাজিত হয়েছেন, সেখানে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। এতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তারা।
” এখানেও একটি আসনে ব্যতিক্রম রয়েছে। নির্বাচন না করেও মন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক এমপি গোলাম আকবর খোন্দকারের নাম।”
কয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষিত হতে পারে বিএনপির মন্ত্রিসভা। তাই অধিকাংশ নবনির্বাচিত এমপি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। শপথ গ্রহণের পর চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির এমপিদের মধ্যে কারা মন্ত্রিপরিষদে যাচ্ছেন, সেদিকেই এখন সবার নজর। নির্বাচিতদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় কেউ স্থান পাবেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা চলছে।
অতীতের সব সরকারেই চট্টগ্রামের এমপিরা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী, মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় সরকারি দলের হুইপসহ আটজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী, তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের সরকারি দলের হুইপ এবং বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল।
অষ্টম জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী একটি এবং আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দুটি আসন পেয়েছিল।
চট্টগ্রামের একাধিক বিএনপি নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, চট্টগ্রাম এবার বিএনপিকে সর্বাধিক আসন উপহার দিয়েছে। বিএনপিও চট্টগ্রামকে মূল্যায়ন করবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা থাকে নিজেদের জনপ্রতিনিধিরা মন্ত্রিত্ব পাক, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশাও একই।
বিএনপি সরকারের আসন্ন নতুন মন্ত্রিপরিষদে চট্টগ্রাম থেকে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে নির্বাচিত সাবেক চারবারের এমপি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; আনোয়ারা আসন থেকে চারবারের নির্বাচিত এমপি সরোয়ার জামাল নিজাম; চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে প্রথমবার ভোটে নেমে নির্বাচিত বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন; চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনীয়া) আসনে নির্বাচিত প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুমাম কাদের চৌধুরী; চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং–পাহাড়তলী) আসনে প্রথমবার নির্বাচিত জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাঈদ আল নোমান (সাবেক মন্ত্রী ও দলের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে); চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনে প্রথমবার বিজয়ী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী–নগরের আংশিক) আসনে প্রথমবার নির্বাচিত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ।
এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) থেকে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীও। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড–নগরের আংশিক) আসন এবং চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।