এবারের নির্বাচনে ইভিএম থেকে সরে কাগজের ব্যালটে ফিরছে ভোটগ্রহণ। এর প্রভাব পড়েছে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যায়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ভোটকেন্দ্র পুনর্বিন্যাস করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে আগের নির্বাচনের তুলনায় জেলায় কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে, যদিও একই সময়ে কয়েক লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। আগের সংসদ নির্বাচনে এসব আসনে কেন্দ্র ছিল ২ হাজার ২৩টি। অর্থাৎ কেন্দ্রের সংখ্যা কমানো হয়েছে ৫৮টি।
কেন্দ্রের সংখ্যা কমলেও ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটার। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে চট্টগ্রাম জেলা ও নগর মিলিয়ে মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জনে। দুই বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭। অর্থাৎ ভোটার বেড়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ জন।
ভোটার বৃদ্ধির এই প্রবণতা প্রায় সব আসনেই দেখা গেছে। ১৬টির মধ্যে ১৫টি আসনে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। শুধু চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-ইপিজেড-পতেঙ্গা) আসনে ভোটার কমেছে ৬ হাজার ৫৭৪ জন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের আসনগুলোতে ভোটার বৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ভোটার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪৮ হাজার বেশি। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনেও ৪০ হাজারের বেশি ভোটার যুক্ত হয়েছেন।
নগর এলাকায় ভোটার বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। চট্টগ্রাম-৯, ১০ ও ১১ এই তিনটি নগরভিত্তিক আসনে ভোটার বৃদ্ধির সংখ্যা ১০ হাজারের নিচে রয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে বরং ভোটার কমেছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় বলছে, ভোটার স্থানান্তরই এর অন্যতম কারণ হতে পারে। শিল্পাঞ্চল ও বন্দরকেন্দ্রিক এই আসনে কর্মসংস্থানের ধরন বদলানোয় অনেক ভোটার অন্য এলাকায় তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্র কমানোর পেছনে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকেই প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরছে নির্বাচন কমিশন। এক কর্মকর্তা জানান, আগের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কারণে কেন্দ্র বেশি রাখতে হয়েছিল। এবার কাগজের ব্যালটে ভোট হওয়ায় একই পরিসরে কম কেন্দ্রে ভোট নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে। এখানে ২১টি কেন্দ্র কমানো হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া, হালিশহর-পাহাড়তলী-খুলশী এবং বন্দর-পতেঙ্গা আসনেও কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে।
এরই মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। ভোটগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নগর ও উপজেলা পর্যায়ে আলাদা প্রশিক্ষণ চলছে। ব্যালট ছাড়া অন্যান্য সরঞ্জাম ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এই নির্বাচন প্রশাসনের জন্য একটি দায়িত্ব ও বিশ্বাসের পরীক্ষা। আইন মেনে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে হবে।
এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এ পদ্ধতিতে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ৯৪ হাজার ৯৪১ জন।