সাহিত্যাঙ্গন বাংলাদেশের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত 

বাংলাদেশের সাহিত্যভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘সাহিত্যাঙ্গন বাংলাদেশ’ এর দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক জাঁকজমকপূর্ণ আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা ও কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের স্বনামধন্য কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সাহিত্যাঙ্গন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিক সৈয়দা রুখসানা জামান শানু।

অনুষ্ঠানটি দুইটি পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মিডিয়া প্রফেশনাল গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ও ‘সকলের কথা’ পাক্ষিকের সম্পাদক সমর রায়।

দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেখক পরিষদের সভাপতি, বহুমাত্রিক লেখক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ।

পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ইতিহাসবেত্তা ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক সোহেল মো. ফখরুদ-দীন।

সাহিত্যের ভূমিকা ও গুণীজনদের সংবর্ধনা: আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার গুরুত্ব ও সাহিত্যের মাধ্যমে জাতির বৌদ্ধিক উন্নয়ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবি দিল আরা রুমি, লিটল ম্যাগাজিন ‘একতারা’র সম্পাদক মতিয়ার রহমান, অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন লাভলী, জাতীয় কবিতা মঞ্চের সভাপতি,কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, ঢাকা ফোরাম ও ভাষা আন্দোলন স্মৃতি রক্ষা পরিষদের সভাপতি ড . মোমতাজ উদ্দিন আহমদ, নজরুল গবেষক হাবিবুর রহমান স্বপন, ভাষাগবেষক ডা. মআআ মুক্তাদীর এবং বেঙ্গল আর্কাইভের নির্বাহী পরিচালক কাউসার হোসেন সুইট, মরমী কবি চট্টলানামা সম্পাদক মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম প্রমুখ।

বক্তারা সাহিত্যাঙ্গন বাংলাদেশের সাহিত্য চর্চার প্রসার, নবীন লেখকদের উৎসাহ প্রদান এবং বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমানে উন্নীত করার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন। একইসঙ্গে তাঁরা উল্লেখ করেন যে, একটি জাতির সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করতে সাহিত্য ও গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। সাহিত্যাঙ্গন সম্মাননা ২০২৫ : গুণীজনদের স্বীকৃতি: বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ৩১ জন খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের হাতে ‘সাহিত্যাঙ্গন বাংলাদেশ সম্মাননা ২০২৫’ প্রদান করা হয়। এই সম্মাননার মাধ্যমে তাঁদের সাহিত্য ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

সাহিত্যাঙ্গন বাংলাদেশের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সাহিত্যাঙ্গন বাংলাদেশ গত দশ বছর ধরে সাহিত্যচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি নবীন লেখকদের জন্য কর্মশালা, সাহিত্য সভা, সাহিত্য প্রকাশনা এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমানের সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য অনুবাদ কর্মসূচির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংগঠনের সভাপতি কবি সাংবাদিক সৈয়দা রুখসানা জামান শানু বলেন, “সাহিত্যের চর্চা ও প্রসারের মাধ্যমে আমরা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”। সাহিত্যাঙ্গন বাংলাদেশের এই দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন বাংলা সাহিত্য ও গবেষণার অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা এবং কবিতা পাঠের মাধ্যমে এই আয়োজন শুধু সাহিত্যিকদের মিলনমেলা নয়, বরং নতুন প্রতিভার বিকাশ ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা। বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।