মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য ভারতে লজিস্টিকস হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের রসদ সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাবটিকে কাজে লাগানোর কথা ভাবা হচ্ছে বলে নৌচলাচলবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মেরিন ইনসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্র সফর করে এসেছেন। টোকিওভিত্তিক নিক্কেই ও মুম্বাইভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টাইমস নাউ নিউজের বরাত দিয়ে মেরিন ইনসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন।
ওই সময় দুই দেশের পক্ষ থেকে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের বৃহৎ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এখন বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার এক স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌযান ও উড়োজাহাজের রসদ সরবরাহ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভারতে অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাইডার জানিয়েছেন, সামনের দিনগুলোয় আরো অনেক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন হবে; তবে বর্তমানের প্রধান লক্ষ্য হলো ভারতকে ইন্দোপ্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন মিত্রদের জন্য একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলা। এরই অংশ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনী ভারতীয় বৃহৎ শিপইয়ার্ডগুলোর সঙ্গে জাহাজ মেরামতসংক্রান্ত চুক্তি সই করবে।
এরই মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনী চেন্নাইয়ের নিকটবর্তী লারসেন অ্যান্ড টুব্রো শিপইয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। এছাড়া মুম্বাই ও গোয়ার আরো দুটি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিগগিরই চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত করারও কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক্ষেত্রে মূল ভাবনাটি হলো এ অঞ্চলে যদি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের হাবের সংখ্যা বাড়ানো যায়, তাহলে বাহিনীটির পক্ষে অন্যান্য দেশের সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার সংখ্যা বাড়ানোও সহজ হবে।
নিয়ার ইস্ট সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক জেফ্রি পেইন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের বেশকিছু হাব রয়েছে। কিন্তু ইন্দোপ্যাসিফিকের ক্ষেত্রে এ কথা বলা যায় না। সুতরাং ভারত এ দায়িত্ব পালন করছে।’
বর্তমানে এশিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন দুটি হাব অবস্থিত জাপান ও সিঙ্গাপুরে।
ইউএস ইন্দোপ্যাসিফিক কমান্ডের সাবেক কমান্ডার হ্যারি হ্যারিস জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরে দিয়েগো গার্সিয়া ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পেন্টাগনের চীনবিষয়ক ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা নৌবাহিনীর কাছে এ মুহূর্তে ৩৫৫টি জাহাজ ও সাবমেরিন রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী হয়ে উঠেছে চীন। এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমের আওতা ও পরিধি বাড়ানো না হলে নৌ সক্ষমতায় চীনের পেছনে পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটিকে মোকাবেলার সক্ষমতার দিক থেকেও দুর্বল হয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র।
ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে ভূভাগের চেয়ে জলভাগ বেশি। এখানে জরুরি রসদ সরবরাহ কার্যক্রম চালানো ইউরোপ অঞ্চলের তুলনায় অনেক কঠিন। এ কারণে এখানে নিজের অবস্থানকে আরো বেশি সুরক্ষিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মেরিন ইনসাইটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।