গ্রাম্য শালিসে দোররা মেরে চাচিকে ভাতিজার সাথে বিয়ে

বগুড়ার শিবগঞ্জে গ্রাম্য শালিসে দোররা মেরে প্রবাসীর স্ত্রী চাচিকে ভাতিজার সাথে বিয়ে পড়ানোর প্রেক্ষাপটে ইউপি সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ।
এর আগে গত সোমবার (১০ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী নারী আটজনের নামে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

শিবগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রউফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতাররা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ জিল্লুর রহমান, পশ্চিম জাহাঙ্গীরাবাদ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহিনুর রহমান, কাজির সহকারী মোঃ ইলিয়াস আলী ফকির, মালোগাড়ি গ্রামের মাতব্বর যথাক্রমে মোজাফফর মন্ডল, তোজাম মন্ডল ও মোজাম্মেল হক।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। শনিবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে প্রতিবেশী ভাতিজা আব্দুল মোমিনকে সাংসারিক কাজে বাড়িতে ডাকেন। এসময় গ্রামের লোকজন অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে তাদেরকে ঘরে সারা রাত আটকে রাখে। পরদিন সকালে দু‘জনকে ঘর থেকে বের করে মারপিট করে গ্রামে শালিস বাসায়। শালিসে প্রবাসে থাকা স্বামীকে তালাক করতে বাধ্য করার পর মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহিনুর দু’জনকেই ১০১ করে দোররা মারার নির্দেশ দেন। এরপর একই গ্রামের আজাদুল ইসলাম বাঁশের কঞ্চি দিয়ে দোররা মারেন। পরে দুই লাখ টাকা দেন মোহরানা নির্ধারণ করে প্রতিবেশী ভাতিজা আব্দুল মোমিনের সাথে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে আটমুল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল হোসেন সাংবাদিককে জানান, ঘটনার সময় তার পরিষদের ওই মেম্বার উপস্থিত ছিলেন না।
শিবগঞ্জ থানার ওসি বলেন, ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করার পরপরই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অপর দুজনকে গ্রেফতারের অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃত ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।