বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আজ থেকে রুপিতে লেনদেন শুরু হচ্ছে। মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজধানীর একটি হোটেলে ভারতের সঙ্গে রুপিতে দ্বিপক্ষীয় লেনদেন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ভারতের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও আইসিআইসিআই ব্যাংক উভয় দেশের মধ্যে রুপিতে লেনেদেনের দায়িত্বে থাকবে। আপাতত রুপিতে শুরু হলেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশী মুদ্রা টাকায়ও হবে এ বাণিজ্য।
কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা বা নিজস্ব মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের আলোচনা চলছে প্রায় এক দশক ধরে। বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। সে সময় ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মাধ্যম ভারতীয় মুদ্রা রুপি ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়া হয়। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়ার কথা ওই বৈঠকেই জানিয়ে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। টিপু মুনশি দেশে ফিরে এসে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিষয়টি সম্পর্কে জানালে তারা সম্মতি দেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, সরাসরি রুপি ব্যবহার করে আমদানি-রফতানির মূল্য বিনিময় জনপ্রিয় হয়ে উঠলে দুই দেশের লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের ওপর চাপ কমবে। তাছাড়া আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের দুবার মুদ্রা বিনিময় করার খরচ কমবে। এতে লেনদেন নিষ্পত্তিতে সময়ও বাঁচবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ এবং প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয় দেশে। এদিকে ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে দেশে টাকা-রুপিভিত্তিক ডেবিট কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৮ জুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি উপস্থাপনকালে গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার এ ঘোষণা দেন। এ কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা টাকা দিয়ে যেমন দেশের মধ্যে কেনাকাটা করতে পারবেন, তেমনি একই কার্ড দিয়ে ভারতে গিয়ে রুপিতে কেনাকাটা করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রুপিতে লেনদেন কার্যক্রম চালুর পর ব্যাংকগুলো এ মুদ্রায় এলসি করতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাতে অনুমতি দেবে। বাংলাদেশের কোনো ব্যবসায়ী আমদানি বা রফতানির ক্ষেত্রে রুপিতে এলসি খুলতে চাইলেও তা করতে পারবেন।
এ লেনদেনের জন্য দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নিজ দেশের দুটি ব্যাংককে হিসাব খোলার অনুমতি দিয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সোনালী ও ইস্টার্ন ব্যাংক রুপি লেনদেনে বিশেষ অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক থেকে অনুমোদন পেয়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও আইসিআইসিআই ব্যাংকে লেনদেন হিসাব খুলেছে সোনালী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক। একইভাবে বাংলাদেশের এ দুটি ব্যাংকে হিসাব খুলেছে ভারতীয় ওই দুটি ব্যাংকও।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রুপির কার্ড ইস্যু করা হলে ভারতে ভ্রমণ, চিকিৎসা বা শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে ডলার কিনে রুপি কিনতে হবে না। ফলে সরাসরি রুপি পাওয়ায় ডাবল এক্সচেঞ্জ করতে হবে না। এটা একটা দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। তবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রুপির মুদ্রা বিনিময় হার এখনো পরিষ্কার না। ২ বিলিয়ন রফতানির মাধ্যমে রুপি আয় করতে পারলেও বাকি ১২ বিলিয়ন ডলারের আমদানি কি রুপিতে নাকি ডলারে হবে সেটাও এখনো পরিষ্কার নয়। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটা কতটা কার্যকর হবে তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।’