কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে কয়লা নিয়ে আজ মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় বিশালাকার আরো একটি জাহাজ ভিড়েছে। সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এলএমজি এটলাস নামের জাহাজটি লম্বায় ২২৯ মিটার। জাহাজের ড্রাফট বা পানির নিচের অংশে রয়েছে সাড়ে ১২ মিটার। এত বড় জাহাজ শুধু মাত্র দেশের মাতারবাড়ি জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব। জাহাজটি আজ ৬৫ হাজার ২০ দশমিক ৭১৮ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে নোঙর করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, মাতারবাড়ির কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে তিন মাসে কয়লাবাহী সববৃহৎ ছয়টি জাহাজ ভিড়েছে। জাহাজগুলো এনেছে ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ২৬ দশমিক ৪৪৯ মেট্রিক টন কয়লা।
জিপি সিপিং এর কর্মরত শাহিন ও কোরিয়ান ট্রেনসলেটার কর্মরত মো ওয়াহিদর রহমান জানান, আজ ৪ জুলাই বেলা ১২ টায় সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এলএমজি এটলাস ইন্দোনেশিয়ার তারাহান বন্দর থেকে ৬৫ হাজার ২০ দশমিক ৭১৮ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লার জেটিতে ভিড়ে। এটি দেশের ইতিহাসে ৬ষ্ঠ বড় জাহাজ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিটিতে জাহাজ ভেড়ানোসহ নৌপথের সব সহায়তা দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জাহাজ থেকে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে কয়লা খালাস করা হবে। কয়লা খালাসে সময় লাগবে অন্তত চারদিন। মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই কয়লা ব্যবহার হবে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলেন, আজ মঙ্গলবার কয়লাবাহী জাহাজটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা জেটিতে ভিড়েছে। এটা কয়লা নিয়ে ভেড়া ৬ষ্ঠ বড় জাহাজ। শুরুতে ২৫ এপ্রিল বড় একটি জাহাজ আসে। এরপর মে মাসে আরো চারটি এবং জুনে একটি জাহাজ কয়লা নিয়ে মতারবাড়ি আসে।’
ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক এটি। এই নৌপথে চট্টগ্রাম বন্দরের গভীর টার্মিনাল নির্মাণ হবে। এখন থেকে বড় জাহাজ ভেড়ানোর ফলে ২০২৬ সালে চালুর অপেক্ষায় থাকা গভীর সমুদ্রবন্দরের টার্মিনালের জন্যও তা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে এখনো চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। তবে দেশের সবচেয়ে গভীরতম কৃত্রিম নৌপথ তৈরি হয়েছে। এই নৌপথের সুবিধা নিয়ে গত ৩ মাসে ৬টি বিশালাকার জাহাজ ভেড়ানো হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে বড় জাহাজ ভেড়ানোর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধা কিছুটা হলেও পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি জেটি রয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পুরোদমে উৎপাদনে যাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।
কয়লাবাহী বড় জাহাজ থেকে কয়লা খালাসের জন্য নির্মিত হয়েছে ৩০০ মিটার লম্বা জেটি। তেল খালাসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ১১০ মিটারের ছোট একটি জেটি। ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর কয়লাবিদ্যুতের মালামাল নিয়ে প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে ভেড়ানো হয়েছে প্রায় ১২০টি জাহাজ। সবই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। এছাড়া কয়লা নিয়ে ভিড়েছে বড় ৬টি জাহাজ।
২৫ এপ্রিল দেশের নৌবাণিজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাহাজ প্রবেশ করে মাতারবাড়িতে। জাহাজ আউসুমারু ৬৩ হাজার ৪১১ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে আসে। এরপর ২য় জাহাজ Ym En Deavar ৬৫ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন, ৩য় জাহাজ আউসুমারু ৬৩ হাজার ৫০১.২৩৭ মেট্রিক টন, ৪র্থ জাহাজ জিসিএল পেরাদিপ -৬৪ হাজার ৭৭১.১০০ মেট্রিক টন, ৫ম জাহাজ নেবিয়াস আমভার ৬৪ হাজার ৩০১.৫৭৩ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মতারবাড়িতে নোঙর করে। সর্বমোট ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ২৬ দশমিক ৪৪৯ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে আসা হয়েছে ওই বড় ৬ জাহাজে।