ঈদের ছুটি শেষে খুলছে দেশের স্থলবন্দর। গতকাল রবিবার থেকে আমদানি শুরু হয় কাঁচা মরিচ। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। আমদানির খবরেও কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দাম।
কোরবানির ঈদের দুই সপ্তাহ আগেও রাজধানীতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। ঈদের কয়েক দিন আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। এর পর থেকে দাম কমেনি। বরং লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় উঠে যায়।
তবে রবিবার আমদানির প্রভাবে কাঁচা মরিচের তেজ কমতে শুরু করেছে।
আজ সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির মরিচ এখনো বাজারে আসেনি। ভারতীয় কাঁচা মরিচ বাজারে এলে দাম আরো কমে আসবে।
আমদানি চলমান থাকলে স্বাভাবিক দামে ফিরবে কাঁচা মরিচ।
গতকাল রবিবার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ ভর্তি ছয়টি ভারতীয় ট্রাক দেশে আসে। আমদানি করা এই কাঁচা মরিচের প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৪৯ থেকে ৫০ টাকা। খুচরা বিক্রি হওয়ার কথা ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আজ সোমবার সকালে আরো ১৫ ট্রাক কাঁচা মরিচ দেশে প্রবেশ করেছে।
এদিকে হিলি স্থলবন্দরের ছয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছে। আজ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়েও কাঁচা মরিচ আসছে। এসব মরিচ দেশে এলে বাজারে এবার কাঁচা মরিচের দাম আরো কমবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কারওয়ান বাজারে গতকাল রবিবার পাইকারিতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়। গত শনিবার বিক্রি হয়েছিল ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকায়। আজ সোমবার ২০০ টাকায় বা এর নিচে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।
বাড্ডা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ কাঁচা মরিচ কেজি ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি করছি। আরো দাম কমবে। আমরা পাইকারি যেভাবে কিনি সেভাবেই বিক্রি করতে হয়।’
রাজধানী ঢাকার মতো সারা দেশে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। এলাকাভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।
বেশ কিছুদিন ধরেই সরবরাহ কমে গিয়ে দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। দাম নিয়ন্ত্রণে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ২৫ জুন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।