ঈদে আওয়ামী লীগের নেতারা ছুটছেন তৃণমূলে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার ঈদুল আজহায় নিজের অবস্থান তুলে ধরতে বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের নেতা এলাকায় থাকবেন। দলটির মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউ কেউ ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার ঈদ উদযাপন করবেন ঢাকায় সরকারি বাসভবন গণভবনে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈদ করবেন ঢাকায়। ঈদের এক দিন পর নিজ নির্বাচনি এলাকায় যাবেন তিনি। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরীও ঈদ করবেন ঢাকায়। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। তবে এরই মধ্যে নিজ এলাকা ঝালকাঠিতে গিয়ে ঘুরে এসেছেন। উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদ কিছুটা অসুস্থ থাকায় তিনি ঈদ করবেন ঢাকায়। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ঈদ করবেন নির্বাচনি এলাকা টাঙ্গাইলে।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান ও জাহাঙ্গীর কবির নানকও ঈদ করবেন ঢাকায়।সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রহমান ঈদ করবেন নিজ এলাকা ফরিদপুরে। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস গ্রামে। আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ঈদ করবেন তার নির্বাচনি এলাকা কুষ্টিয়ায়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে ঈদ করবেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ঈদ করবেন ঢাকায়। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ঈদে চাঁদপুরে অবস্থান করবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও আহমদ হোসেন ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনি এলাকায়। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর নিজ নির্বাচনি এলাকা তিতাসে ঈদ করবেন। দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন নিজ নির্বাচনি একালায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করবেন। উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান ঈদে ঢাকায় থাকছেন। এবার ঈদে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অসহায়, দুস্থ এবং গরিবদের সাহায্য করার নিদের্শনা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়নের চিত্র জনগণের মাঝে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, গত ২২ জুন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক বৈঠকে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় যেতে বলেছেন। তিনি বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত চ্যালিঞ্জিং হবে। আপনার যার যার এলাকায় যান। এরই প্রেক্ষিতে এবার বেশিরভাগ নেতা ঈদুল আজহায় নিজ এলাকায় যাবেন। ইতিমধ্যে দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। আবার অনেকে ঈদের দিন ঢাকায় নামাজ আদায় করে এলাকায় যাবেন। তবে কোনো কোনো নেতা ঢাকায় ঈদ করবেন। কারণ এবারের ঈদুল আজহা নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিমধ্যে তারা গরিব ও অসহায়দের ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। বাড়িয়ে দিয়েছেন নানা সাহায্য সহযোগিতার হাত। অনেক শীর্ষ নেতা আগেই প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকায় ঈদসামগ্রী ও কুরবানির পশু কেনার টাকা আগেই পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে উত্তেজনা। কেউ কেউ প্রিয় নেতাকে জানিয়েছেন ফুলেল শুভেচ্ছা।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান  বলেন, আমি নিজ নির্বাচনি এলাকায় চলে এসেছি। এলাকার স্থানীয় নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবা। এলাকায় গিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের সুন্দর সময়গুলো কাটাব।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমি ঢাকার মোহম্মদপুরে ঈদ করব। নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করব।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ বলেন, আমি নিজ নির্বাচনি এলাকায় কুষ্টিয়ায় অবস্থান করছি। ঈদ উদযাপন এখানেই করব। নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করব।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, আমি ইতিমধ্যে নির্বাচনি এলাকায় শরীয়তপুরে আছি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করব। তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করব। ঈদুল আজহার সময়টুকু স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাটাব। সাধারণ মানুষ কি বলে তা শুনব।