গাজীপুরের কাশিমপুরে নেশাগ্রস্ত ছেলের লাঠির আঘাতে পিতার মৃত্যুর অভিযোগে পাষণ্ড দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে কাশিমপুর থানা পুলিশ। নিহত ওসমান গনি বেপারী মহানগরীর কাশিমপুরের ০৪নং ওয়ার্ডের সারদাগঞ্জ এলাকার মৃত নেফাজ উদ্দিন ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম তার নেশার টাকার জন্য দীর্ঘ দিন যাবৎ ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে আসছে। এবিষয়ে মেজো ভাই শফিকুল ইসলাম একাধিকবার তার ছোট ভাই শরিফুল ইসলামকে শাসন করে। গত ১৭ই জুন রাতে কাশিমপুরের সারদগঞ্জ রাইস মিল হাবিব মার্কেট এলাকায় নেশাগ্রস্থ ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম এর উৎপাত বিষয়ে কথা বলতে চায়। বড় ভাই মাহবুব হোসেনসহ দুই ভাই ক্ষিপ্ত হয়ে মেজো ভাই শফিকুলের উপর এলোপাতাড়ি মারধোর শুরু করে। তাদের তিন ভাই এর সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হলে বাবা ওসমান গনি বেপারী তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এসময় মাহবুবের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাদের বাবা ওসমান গনি বেপারীকে মাথায় স্বজোড়ে আঘাত করে। ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ওসমান গনি বেপারীকে শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কেপিজে বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং মেজো ছেলে শফিকুলকে শহীদ তাজউদ্দীন আহাম্মদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ওসমান গনি ও তার মেঝো ছেলে শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হয়ে পরের দিন বাড়িতে ফিরে আসে। এদিকে মঙ্গলবার (২০ জুন) মাঝ-রাতে হঠাৎ ওসমান গনি বেপারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার নিজ শয়ন কক্ষে মৃত্যুবরণ করেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মেঝো ছেলে শফিকুল ইসলাম জানান, আমার ছোট ভাই নেশার টাকা জোগাড় করতে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাকে একাধিক বার শাসন করতে চাইলে আমার বড় ভাই মাহবুব আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই ভাই মারধোর শুরু করে। মারপিটের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আমি ও আমার বাবা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসি।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে আমার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা ছোটাছুটি করি। একপর্যায়ে আমার বাবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। থানা পুলিশ এবিষয়ে খবর পেয়ে আমার দুই ভাই শরিফুল ও মাহাবুবকে থানায় নিয়ে যায়। আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করি। বাবার লাশ দাফনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করি। পুলিশ মামলার প্রয়োজনে লাশ মর্গে পাঠান।
কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ রাফিউল করিম রাফি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মৃত ওসমান গনি ব্যাপারীর দুই ছেলেকে হত্যা মামলায় আটক করে আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।