চট্টগ্রামে এক রাতে ঘটল তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ঘটনাগুলো চট্টগ্রামের পরিবেশকে করে তুলেছে শঙ্কিত ও উত্তেজিত। ভিন্ন স্থানে সংঘটিত এসব খুনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশ বাহিনীর কাজে ধীরগতির কারণে অপরাধীরা এমন কর্মকাণ্ডের সুযোগ পাচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো চট্টগ্রাম মহানগরের এনায়েতবাজার এবং ফটিকছড়ি উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৪নং ওয়ার্ডে পশ্চিম সরফভাটা এলাকায় ঘটনাগুলো ঘটে।
চট্টগ্রাম মহানগরের এনায়েতবাজার এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে আকাশ ঘোষ (২৬) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত ১টার দিকে এনায়েতবাজার কসাই পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনায় জড়িত যুবকদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে পরিবর্তন করে দেওয়ার পর সানি নামে এক যুবক আকাশকে টাকা পরিশোধ করেননি। বৃহস্পতিবার রাতে পাওনা টাকা চাইতে গেলে সানি ও সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন যুবক আকাশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একপর্যায় তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় রেখে চলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আকাশকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আকাশ ঘোষ নগরীর গোয়ালপাড়া পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত সানিও এনায়েতবাজার এলাকার স্থানীয় যুবক বলে জানা গেছে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই অভিযান শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। দ্রুতই দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এখনও থানায় মামলা দায়ের হয়নি। তবে ভুক্তভোগীর মা অথবা বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন।
এদিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত হওয়ার দুই দিন পর আব্দুল্লাহ আল মাসুদ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ১১টায় ফটিকছড়ি পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং ওন্দা মিয়ার বাপের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।নিহত যুবক মাসুদ পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন।
নিহতের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল রাশেদ বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বাদী আব্দুল্লাহ আল রাশেদ জানান, ঘটনার রাতে ওসমান তার ভাইকে মুনাফখীল মাদ্রাসা থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য অভিযুক্তরা লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে মাসুদের মাথা, চোখ, হাত ও পায়ে বেধড়ক আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পরে পরিবারের সদস্যরা মাসুদকে উদ্ধার করে প্রথমে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন, নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পশ্চিম সরফভাটা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আবদুল মান্নান (৪০) নামে এক শ্রমিকদল নেতা খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল মান্নান সরফভাটা জিলানী মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা এবং সরফভাটা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রাতে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলে তারা বাইরে এসে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় মান্নানকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, মান্নানের শরীরে চারটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকারীরা পালানোর আগে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিলেও ঘটনাস্থলে তার মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছি, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।